সব লেখা

বাবা দিবসের উপহার — যে বাবা কিছুই চান না, তাঁর জন্য ১১টি আইডিয়া

বাবা দিবসে কী উপহার দেবেন? একসঙ্গে সময়, নতুন কিছু শেখা, পুরোনো জিনিস সারিয়ে দেওয়া, তাঁর গল্প রেকর্ড করা আর তাঁর নামে একটা গান, যা তিনি বারবার শুনবেন।

৩ অক্টোবর, ২০২৬ · 3 মিনিটে পড়ুন

বাবা দিবস বাবাদের ধন্যবাদ জানানোর দিন — বাবা, দাদু, নানা, সৎবাবা, আর সেই মানুষগুলোর জন্যও, যাঁরা বাবা না হয়েও বাবার দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ আর ভারতে, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতোই, দিনটা পালিত হয় জুনের তৃতীয় রবিবার।

বেশিরভাগ বাবাকে জিজ্ঞেস করুন “কী চাই তোমার?” — উত্তর আসবে “কিছু লাগবে না”। এই এগারোটা আইডিয়া সেই কথাটাকে গুরুত্ব দিয়েই সাজানো: জিনিস কম, সময় বেশি, মনোযোগ বেশি, আর এমন কিছু যা টিকে থাকে।

১. দিনটা কাটান তাঁর পছন্দের কাজে

তিনি যা ভালোবাসেন, সেটাই তাঁর সঙ্গে করুন, আর তাঁর নিয়মেই করুন। পুকুরে ছিপ ফেলতে যান, একটা মাছও না উঠলেও। মোবাইল না দেখে পুরো খেলাটা পাশে বসে দেখুন — ক্রিকেট হোক বা মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল। স্কুটারের তেল বদলানো শেখাতে চাইলে শিখে নিন, জানা থাকলেও। উপহারটা হলো, তাঁর প্রিয় জিনিসে আপনার পুরো মনোযোগ।

২. তাঁর পুরোনো জিনিস সারিয়ে দিন

যে হাতঘড়িটা বহুদিন বন্ধ, চেন ভাঙা পুরোনো ব্যাগ, জং ধরা যন্ত্রপাতির বাক্স, দাদুর আমলের রেডিও বা সাইকেল। ভালো মিস্ত্রির কাছে ঠিক করিয়ে নতুনের মতো করে ফেরত দিন। এতে তিনি বুঝবেন, তাঁর প্রিয় জিনিসগুলো আপনার চোখে পড়েছে।

৩. তাঁর গল্পগুলো রেকর্ড করে রাখুন

ফোনে রেকর্ডিং চালু করে তাঁকে বসান, আর জিজ্ঞেস করুন — ছোটবেলার গ্রাম, প্রথম চাকরি, মায়ের সঙ্গে প্রথম দেখা, জীবনের প্রথম সাইকেল। দশটা প্রশ্ন ঠিক করে রাখুন, তারপর তাঁকে নিজের মতো বলতে দিন। যে বাবারা নিজের কথা কখনো বলেন না, সরাসরি জিজ্ঞেস করলে অনেক সময় তাঁরাই মন খুলে দেন। ফাইলটা যত্ন করে রাখুন। একদিন এর দাম আর কিছুতে মাপা যাবে না।

৪. একসঙ্গে নতুন কিছু শিখুন

এমন একটা ক্লাসে দুজনে ভর্তি হন: কাঠের কাজের কর্মশালা, ছবি তোলার কোর্স, সাঁতার, দাবা বা বাগান করা। মুখোমুখি বসে কথা বলার চেয়ে পাশাপাশি নতুন কিছু করা অনেক বাবার কাছে অনেক সহজ লাগে।

৫. পুরো ভোজটা নিজে রাঁধুন

রবিবারের দুপুরে বাজার থেকে রান্না পর্যন্ত পুরোটাই নিজে করুন, আর তাঁকে বসিয়ে রাখুন। ভাপা ইলিশ, কষা মাংস বা তাঁর মায়ের মতো করে ডাল — যা তিনি সবচেয়ে ভালোবাসেন। আগে থেকে তাঁর কাছ থেকে রেসিপিটা জেনে নিন আর অক্ষরে অক্ষরে মানুন। মন্তব্য তিনি তবুও করবেন।

৬. রোজকার জিনিসের সবচেয়ে ভালোটা

যদি জিনিসই দিতে চান, বেছে নিন যা তিনি প্রতিদিন ব্যবহার করেন, তার সবচেয়ে ভালো সংস্করণ: সারাদিন চা গরম রাখা ফ্লাস্ক, আরামদায়ক চপ্পল, ভালো ছাতা, পড়ার চশমার মজবুত খাপ, সুতির নরম পাঞ্জাবি। সাধারণ জিনিসের ভালো সংস্করণ রোজ কাজে লাগে, আর রোজ আপনার কথা মনে করায়।

৭. নাতি-নাতনিদের চিঠি

বাচ্চাদের বলুন দাদু বা নানাভাইয়ের প্রিয় কাজ করার ছবি আঁকতে, আর তাঁকে নিয়ে কয়েকটা কথা বলতে — আপনি লিখে দিন। বাচ্চারা সবচেয়ে মজার আর সবচেয়ে সত্যি কথাগুলো বলে। সেরাটা বাঁধিয়ে দিন।

৮. তাঁর জন্য একটা গান বানান

তাঁকে নিয়ে বানানো একটা গান — তাঁর নাম, তাঁর বিখ্যাত কথাগুলো, আর এমন সব মুহূর্ত যা শুধু আপনার পরিবারই জানে — সেটা তিনি একা থাকলে চুপিচুপি বারবার শুনবেন। AI Music-এ কয়েক লাইনে তাঁর কথা লিখুন; প্রায় এক মিনিটে AI গানের কথা লিখবে, সুর করবে, সত্যিকারের কণ্ঠে গাইবে, আর একটা প্রচ্ছদও এঁকে দেবে, যেন আসল একটা গান বেরিয়েছে। প্রথম গান বিনামূল্যে। গান বাংলায় হতে পারে, চাইলে অন্য যেকোনো ভাষায়ও।

আমার বাবা সুব্রতর জন্য একটা প্রাণবন্ত বাংলা গান, আমার আর ভাইয়ের তরফ থেকে। তাঁর প্রিয় কথা “দুবার মাপো, একবার কাটো”, রবিবার সকালের বাজার আর দরদাম, একই বিকেলে আমাদের দুজনকে সাইকেল চালানো শেখানোর দিনটা। কোরাসে থাকুক — আমরা যা হয়েছি, তাঁর জন্যই হয়েছি।

৯. দুজনে মিলে একটা ছোট ভ্রমণ

পুরো পরিবারের বেড়ানো নয়, শুধু আপনারা দুজন: এক রাতের জন্য সমুদ্রের ধারে, প্রিয় দলের খেলা দেখতে মাঠে, অথবা যে গ্রামে বা শহরে তিনি বড় হয়েছেন, সেখানে। তাঁকেই ঘুরিয়ে দেখাতে দিন — কোন পুকুরে সাঁতার শিখেছিলেন, কোন স্কুলে পড়তেন।

১০. যে কাজে সাহায্য চাইতে তিনি সংকোচ করেন

নতুন ফোন চালু করে দেওয়া, ছবিগুলো গুছিয়ে রাখা, যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা তিনি বারবার পিছিয়ে দিচ্ছেন সেটার সময় নেওয়া, ব্যাংক বা পেনশনের কাগজপত্র গুছিয়ে দেওয়া। অনেক বাবা এর কোনো একটাতে চুপচাপ হিমশিম খান, কিন্তু কখনো মুখে বলেন না।

১১. মুখে বলুন

অনেক পরিবারে সবচেয়ে কঠিন উপহারটাই সবচেয়ে সহজ। সোজা ভাষায় ধন্যবাদ বলুন, সম্ভব হলে সামনাসামনি, আর একটা নির্দিষ্ট কথা বলুন: “পরিশ্রম করতে শিখিয়েছ, ধন্যবাদ”, কিংবা “যখনই ফোন করেছি, তুমি ধরেছ।” এমন একটা বাক্য অনেক বাবা বছরের পর বছর মনে রাখেন।

যখন দিনটা সহজ নয়

বাবা যদি আর না থাকেন, যদি সম্পর্কে দূরত্ব থাকে, কিংবা যদি নিজে বাবা হওয়ার অপেক্ষায় থাকেন — বাবা দিবস কষ্টেরও হতে পারে। যেভাবে মন চায়, সেভাবে দিনটা পালন করুন: তাঁর প্রিয় জায়গায় একবার যাওয়া, তাঁর নামে কাউকে খাওয়ানো, কিংবা সেই কাকা, মামা, শিক্ষক বা দাদুকে ধন্যবাদ জানানো, যিনি আপনার পাশে ছিলেন। দিনটা কাটানোর কোনো ভুল উপায় নেই।

আরও পড়ুন