AI গান জেনারেটরের প্রম্পট লেখার নিয়ম — যাতে গান হয় মনের মতো
ভালো গানের প্রম্পটের গঠন — কার জন্য, কী ঘটেছিল, কেমন অনুভূতি, আর এমন একটা খুঁটিনাটি যা আর কেউ জানে না — আগে-পরে উদাহরণ সহ।
দুজন মানুষ AI-এর কাছে চাইলেন “একটা প্রেমের গান”। একজন পেলেন এমন কিছু, যা ফোনে অপেক্ষার সময়ের বাজনার মতো শোনায়। আরেকজন পেলেন এমন গান, যা তার সঙ্গী বারবার শুনতে চান। মডেল একই ছিল; প্রম্পট আলাদা।
গানের প্রম্পট কোনো সার্চ কোয়েরি নয়। এটা একটা ব্রিফ — চায়ের কাপ হাতে একজন গীতিকারকে আপনি যে কয়েকটা বাক্য বলতেন, সেগুলোই। কীভাবে লিখবেন, দেখে নিন।
ভালো গানের প্রম্পটের চারটি অংশ
১. গানটা কার জন্য
একটা নাম যেকোনো বিশেষণের চেয়ে বেশি কাজ করে। “মৌমিতার জন্য একটা প্রেমের গান” — এটাই “একটা রোমান্টিক গান”-এর চেয়ে অনেক বেশি ব্যক্তিগত। যদি কোনো মানুষের জন্য না হয়, তবে লিখুন কীসের জন্য: লং ড্রাইভ, বিয়েতে কনের প্রবেশ, জিমের প্লেলিস্ট।
২. কী ঘটেছিল
গান মানে গল্প। এমন একটা মুহূর্ত দিন, যাকে ঘিরে গানটা গড়ে উঠবে:
- “কলেজ স্ট্রিটের এক বইয়ের দোকানের সামনে বৃষ্টিতে আমাদের প্রথম দেখা।”
- “চাকরির জন্য ও ঢাকা ছেড়ে টরন্টো চলে গেল, আর আমরা দুই বছর দূর থেকে ভালোবেসেছি।”
- “ক্লাস সেভেনে দুজনে একসঙ্গে বেঞ্চের ওপর দাঁড়ানোর শাস্তি পেয়েছিলাম, সেই থেকে বন্ধু।”
৩. অনুভূতিটা কেমন হবে
মেজাজের শব্দ সবকিছু ঠিক করে দেয় — সুর, তাল, কণ্ঠ কীভাবে গাইবে। স্পষ্ট করে বলুন: উষ্ণ আর অন্তরঙ্গ আর মহাকাব্যিক, বিজয়ের এক জিনিস নয়, আবার মিষ্টি-বিষণ্ণ আর দুঃখের-ও এক নয়।
৪. যে খুঁটিনাটি আর কেউ জানে না
এটাই সেই জিনিস, যা শুনে কেউ থমকে গিয়ে বলে “এটা ও জানল কী করে?”। একটা ডাকনাম, একটা অভ্যাস, শুধু আপনাদের দুজনের একটা রসিকতা:
ওর যে জিনিসটা আমার সবচেয়ে ভালো লাগে — মজার গল্পের শেষ লাইন বলার আগেই ও নিজে হেসে ফেলে।
ঠিক এরকম একটা লাইন থেকেই আমাদের একটা উদাহরণ-গানের নাম হয়েছিল: শেষ লাইনের আগেই হাসি।
আগে আর পরে
আগে: “আমার বিড়ালকে নিয়ে একটা খুশির গান।”
পরে: “আমার বিড়াল মিষ্টিকে নিয়ে একটা উষ্ণ, মজার গান। ওর পাগলামি হলো — প্রতি জোড়া মোজা থেকে একটা চুরি করে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে। খেলাচ্ছলে, হালকা, ভালোবাসায় ভরা।”
দ্বিতীয়টা মডেলকে দেয় একটা চরিত্র, বারবার ফিরে আসা একটা মজা আর একটা মেজাজ। আর কোরাসটা লেখা হয়েছিল সেই মোজা নিয়েই।
স্টাইল: নির্দিষ্ট হোন, কিন্তু বাড়াবাড়ি নয়
একটা ধরন বাছুন আর এক-দুটো টেক্সচারের শব্দ জুড়ুন: “অ্যাকুস্টিক, ফিঙ্গারস্টাইল গিটার, নরম নারীকণ্ঠ” বা “সিন্থওয়েভ, আশির দশকের সিন্থ, স্বপ্নালু”। কর্ড প্রগ্রেশন বা বিপিএম-এর সংখ্যা লেখার দরকার নেই। সংগীততত্ত্বের এক অনুচ্ছেদের চেয়ে দু-তিনটে জোরালো শব্দ অনেক বেশি কাজের।
যা এড়িয়ে চলবেন
- নাম ধরে কোনো বিখ্যাত শিল্পীর স্টাইল চাওয়া। গানের মডেলগুলো আসল শিল্পীদের নকল করতে অস্বীকার করার জন্যই তৈরি। নামের বদলে শব্দটা বর্ণনা করুন: “খসখসে, ভরাট পুরুষকণ্ঠ, স্টেডিয়াম রকের মতো কোরাস”।
- পরস্পরবিরোধী কথা। “ধীর, শান্ত, আর উৎসবের মতো বিশাল ড্রপ” — মানুষ হোক বা যন্ত্র, যেকোনো সুরকার এতে গুলিয়ে ফেলবে।
- লেখার পাহাড়। এক পাতা নির্দেশের চেয়ে কয়েকটা জীবন্ত বাক্য ভালো। ঠিক কোন কথাগুলো চান তা যদি মাথায় থাকে, প্রম্পটের বদলে লিরিক্স লিখুন।
কখন নিজের লিরিক্স লিখবেন
কী গাওয়া হবে তা যদি আগে থেকেই জানেন, আমার লিরিক্স মোডে গিয়ে কথাগুলো পেস্ট করুন। অংশগুলো চিহ্নিত করুন [Verse], [Chorus] আর [Bridge] ট্যাগ দিয়ে — গান সেই গঠনই মেনে চলবে। স্টাইল, কণ্ঠ আর ভাষা তখনও আপনিই বাছবেন।
কপি করার মতো একটা ছাঁচ
[নাম]-এর জন্য একটা [মেজাজ] গান, [একটা মুহূর্ত] নিয়ে। ওর যে জিনিসটা আমার সবচেয়ে ভালো লাগে তা হলো [একটা খুঁটিনাটি]। গানটা হোক [অনুভূতি], আর [একটা নির্দেশ — কোরাসে ওর নাম থাকুক, শেষটা আশার সুরে হোক, গানটা ছোট রাখুন]।
বন্ধনীগুলো ভরে ফেলুন, স্টাইল বাছুন, আর গান তৈরি করুন চাপুন। প্রথম সংস্করণ পুরোপুরি মনের মতো না হলে একটা লাইন বদলে আবার চেষ্টা করুন — ছোট্ট বদলেই গান অবাক করার মতো আলাদা হয়ে যায়।

