নানি, দাদি, ঠাকুমা বা দিদিমার জন্য একটা গান

প্রিয় মানুষের জন্য গান

নানি, দাদি, ঠাকুমা বা দিদিমার জন্য একটা গান

রূপকথার রাত, নকশিকাঁথার ফোঁড় আর না-বলা জীবনের গল্প — সব মিলিয়ে তাঁর নামে একটা গান, যা তিনি বারবার শুনতে চাইবেন।

এই গানটা বানান

প্রথম গান বিনামূল্যে — কার্ড লাগবে না।

আমাদের প্রথম গল্প শোনা হয় তাঁর কোলেই — রাক্ষস-খোক্কস, রাজকন্যা, ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমির গল্প। অথচ তাঁর নিজের গল্পটা আমরা খুব কমই শুনি: কোন গ্রাম থেকে বউ হয়ে এসেছিলেন, বড় সংসার কীভাবে একা সামলেছিলেন, কোন রান্নার মাপ কোনোদিন খাতায় লেখা হয়নি। বড় হয়ে, যখন দেখা হওয়া কমে আসে, তখনই মনে হয় — এগুলো কোথাও রেখে দেওয়া দরকার ছিল — শুধু আমাদের জন্য নয়, আমাদের সন্তানদের জন্যও।

একটা গান সেই কাজটাই করে। পরের বার ফোনে তাঁকে দু-একটা প্রশ্ন করুন, যা বলেন টুকে রাখুন, তারপর কয়েক লাইনে লিখে দিন। প্রায় এক মিনিটে তৈরি হবে কথা, সুর আর আসল কণ্ঠে গাওয়া গান। ঈদে বা পুজোয় বাড়ি গেলে শোনান, পারিবারিক মিলনমেলায় বাজান, অথবা এমনিই একদিন — তাঁর কাছে সেটাই সবচেয়ে বড় উৎসব।

আমাদের বানানো একটা গান শুনুন

গলা ছেড়ে গান

Pop, female vocals · 2:39

“সেরা বন্ধুদের সাথে গরমের ছুটিতে লং ড্রাইভ, জানালা খোলা, গলা ছেড়ে গান”

এমন একটি তৈরি করুন

তাঁর গানে কী রাখবেন

  • 1

    যে নামে ডাকেন: “দাদি”, “নানুমণি”, “ঠাম্মা”, “দিম্মা” — আদরের সেই ডাকটাই মুখড়ার প্রথম শব্দ হতে পারে।

  • 2

    তাঁর বাবার বাড়ি: নদীর ধারের গ্রাম, পুকুরঘাট, আমবাগান — যে জায়গার নাম তিনি আজও আদর করে বলেন।

  • 3

    তাঁর হাতের কাজ: নকশিকাঁথার ফোঁড়, শীতের পিঠে-পুলি, রোদে দেওয়া আমের আচার, হাতে বোনা সোয়েটার।

  • 4

    যে কঠিন সময়ের কথা তিনি কম বলেন — অল্প বয়সে সংসারের ভার, ভিটেমাটি ছেড়ে আসা — নরম করে, সম্মান রেখে।

  • 5

    তাঁর ঘরের চেনা জিনিস: হামানদিস্তার ঠুকঠাক, জায়নামাজ বা তুলসীতলার প্রদীপ, পুরোনো ট্রাঙ্কে তোলা শাড়ি।

  • 6

    যা শিখিয়েছেন টাকা দিয়ে যা কেনা যায় না: অল্পে খুশি থাকা, অতিথিকে না খাইয়ে না ছাড়া, ক্ষমা করতে পারা।

  • 7

    পরিবারে নতুন অতিথি এলে — চার প্রজন্ম একসঙ্গে, আর তাঁর কোলে আবার একটা শিশু।

মুখড়াটা যেমন হতে পারে

জোহরা নানু গো, তোমার কোলে রূপকথারই দেশ,

সুঁই-সুতো আর কাঁথার ফোঁড়ে গল্পের নেই শেষ,

“খেয়েছিস তো?” ফোনের ওপার তোমার প্রথম কথা —

তোমার আদর জড়িয়ে থাকে, যেমন নকশিকাঁথা।

কখন তাঁকে গানটা দেবেন

  • ঈদ বা পুজোয় বাড়ি ফেরা। সবাই যখন তাঁর ঘরে জড়ো হয়েছে, সালাম বা প্রণামের পর গানটা চালিয়ে দিন।
  • পারিবারিক মিলনমেলা। দুপুরের খাওয়ার পর, যখন কারও তাড়া নেই আর সবাই এক বিছানায় গাদাগাদি করে বসে।
  • নতুন নাতি-নাতনি এলে। তাঁকে প্রথমবার পুতির খবর দেওয়ার মুহূর্তে একটা গান।
  • তিনি অসুস্থ বা কথা কম বলেন যখন। চেনা নাম আর ধীর, নরম সুর অনেক সময় সেখানে পৌঁছায়, যেখানে কথা পৌঁছায় না।
  • আপনার নিজের বিয়ের আগে। গায়েহলুদের আগের রাতে তাঁর পাশে বসে, তাঁর দোয়া বা আশীর্বাদের কথা দিয়ে বানানো একটা গান শোনান।

পরিবারের জন্য তাঁর গল্প ধরে রাখা

তাঁর জীবন নিয়ে বানানো গান আসলে একটা ছোট্ট পারিবারিক দলিলও। বর্ণনা লেখার আগে তাঁর পাশে বসুন আর তিনটে প্রশ্ন করুন: ছোটবেলা কোথায় কেটেছে, জীবনে সবচেয়ে সাহসের কাজ কী করেছেন, আর আমরা তোমার কোন কথাটা মনে রাখি। উত্তরগুলো যতটা পারেন তাঁর নিজের ভাষাতেই লিখে রাখুন — তাঁর আঞ্চলিক টান, তাঁর শব্দ। চাইলে গানটাও সেই সুরে হতে পারে, যেমন ভাটিয়ালি বা পল্লীগীতির ঢঙে, যা তিনি ছোটবেলায় শুনতেন। MP3 পারিবারিক ছবির ফোল্ডারে রাখুন, আর লিংকটা মামাতো-খালাতো-চাচাতো সব ভাইবোনের সঙ্গে ভাগ করে নিন। কয়েক বছর পর পরিবারের ছোটরা তাঁকে চিনবে অনেকটা এই গান দিয়েই।

  1. 01

    কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দিন

    নাম, স্মৃতি, যেমন মেজাজ চান। যা ইচ্ছা বাদ দিতে পারেন।

  2. 02

    আমরা লিখি আর গাই

    কথা, সুর, কণ্ঠ আর কভার আর্ট — সবই আপনার উত্তর ঘিরে তৈরি।

  3. 03

    তাদের শোনান

    MP3 ডাউনলোড করুন, লিংক শেয়ার করুন, অথবা সেখানেই বাজিয়ে দিন।

প্রশ্ন ও উত্তর

গানটা কি তাঁর রান্না নিয়ে হতে পারে?

খুব ভালোভাবেই পারে। তাঁর বিখ্যাত পদগুলোর নাম, রান্নাঘর আর পিঁড়িতে বসে থাকা ছোট্ট আপনাকে বর্ণনায় রাখুন — অন্তরাগুলো তা দিয়েই গাঁথা হবে।

তাঁর পুরো জীবনের গল্প কি একটা গানে ধরবে?

মূল অধ্যায়গুলো লিখে দিন — কোথায় জন্ম, কবে বিয়ে, সংসার, ছেলেমেয়ে — অন্তরাগুলো সেই ক্রমে এগোবে আর মুখড়া থাকবে তাঁকে নিয়ে। একটা গান সাধারণত দুই থেকে তিন মিনিটের হয়, তাই সবচেয়ে প্রিয় অধ্যায়গুলোই বাছুন।

নানির সঙ্গে আমার দেখা হয় খুব কম, দূরে থাকি। তবু কি গানটা আন্তরিক হবে?

হবে, যদি মা-খালা বা মাসিদের কাছ থেকে তাঁর গল্পগুলো জেনে নেন। তাঁর ছোটবেলা, তাঁর রান্না আর তাঁকে নিয়ে পরিবারের প্রিয় কথাটা লিখুন — আর গানে সোজাসুজি বলুন যে আরও কাছে থাকতে ইচ্ছে করে।

তাঁর সঙ্গে বসে নিজেরাই কথা লিখতে পারি?

পারেন। দুজনে মিলে লেখা কথাগুলো পেস্ট করে দিন, সুর, কণ্ঠ আর কভার ছবি তৈরি হবে সেই কথার চারপাশে।

গানটা কি তাঁর এলাকার ভাষার টানে হতে পারে?

বর্ণনায় তাঁর অঞ্চলের কিছু শব্দ আর বুলি লিখে দিন, সেগুলো গানে জায়গা পাবে। আর তিনি যদি অন্য ভাষায় বড় হয়ে থাকেন, গানটা ৪০টিরও বেশি ভাষার যেকোনোটিতে গাওয়ানো যায়।

আরও উপলক্ষ

আপনার গান মাত্র একটি বাক্য দূরে।

বলুন গানটা কার জন্য আর কী ঘটেছে। বাকিটা আমরা সামলে নেব।